জানুয়ারি

জ্বালানি তেল বাবদ রাশিয়ার আয় বেড়ে ১১১০ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চলতি বছরের প্রথম মাসে জ্বালানি তেল রফতানি বাবদ রাশিয়ার আয় বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চলতি বছরের প্রথম মাসে জ্বালানি তেল রফতানি বাবদ রাশিয়ার আয় বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে জ্বালানি তেল রফতানি থেকে ১ হাজার ১১০ কোটি ডলার আয় করেছে রাশিয়া। আগের মাসের তুলনায় তা ১৩ কোটি ডলার বেশি। খবর দ্য ন্যাশনাল।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কড়াকড়ি এবং রাশিয়ার শীর্ষ কোম্পানি রোসনেফট ও লুকয়েলের ওপর একাধিক দফায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি রুশ জ্বালানি তেল ক্রয় নিয়ে শুল্ক হুমকি অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও গত মাসে রফতানি থেকে রাশিয়ার আয় বেড়েছে। যদিও একই সময়ে দেশটির মোট জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল কমে ৭৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

রফতানি কমলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুফল পাচ্ছে রাশিয়া। বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলের প্রিমোর্স্ক বন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া রাশিয়ার ইউরাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৪৭ সেন্ট বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৬০ ডলার ৬ সেন্টে। এছাড়া ভ্যাকুয়াম গ্যাস অয়েল ও গ্যাস অয়েলের দামও যথাক্রমে ২ ডলার ৫৬ সেন্ট ও ৩ ডলার ৬৮ সেন্ট বেড়েছে। এতে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য থেকে রাশিয়ার আয় ৩৩ কোটি ডলার বেড়েছে। বাড়তি এ আয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি কমার ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে।

আপাতত আয় বাড়লেও রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাত থেকে কর আদায় আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। এতে খাতটিতে আয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলারে।

আইইএ মনে করছে, এটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব। এছাড়া বর্তমানে সাগরে ভাসমান জাহাজগুলোয় রাশিয়ার জ্বালানি তেলের মজুদ প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অনেক জাহাজ এখন অজানা গন্তব্যে যাত্রা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ক্রেতা কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল উৎপাদন দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল কমেছে। এতে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। উত্তর আমেরিকায় তীব্র শীতের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এর অন্যতম কারণ। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকটের মুখে থাকা ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল রফতানি ও উৎপাদন উভয়ই নাটকীয়ভাবে কমেছে। দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যাওয়ার পর সেখানে দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কমেছে।

আরও